অনীক-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ভূমিকাঃ
আমরা বর্তমানে যে বাংলাদেশে বসবাস করছি, সেই বাংলাদেশকে আমার এক দুর্বৃত্তকবলিত দেশ বলে মনে হয়। আমি প্রতিমুহূর্তে অনিরাপদ বোধ করি। একজন পুরুষ হিসেবেও আমি শারীরিক বা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করি। আমি কল্পনা করার চেষ্টা করি যে একজন নারী কতোটা অনিরাপদ বোধ করেন। ঢাকা শহরটিকে আমার মানুষের ভীড়ে একটি বিপদজনক শহর বলে মনে হতে থাকে। আমি কল্পনা করতে পারি একজন নারীর জন্য এই পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। নারী হিসেবে সমাজের শত সহস্র কুটিলতা তাকে সর্বদাই আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে।
একটি কিংবা অজস্র খবরঃ
একটি ভয়ঙ্কর খবর দিয়ে শুরু করি। সময়টা ২০১১ সালের জুন মাস। তপ্ত গ্রীষ্ম এবং খরার কাল, তাই একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের খবর আমার বা আমাদের চোখে পড়ে নি। রাঙামাটির লংগদু এলাকায় একটি ধর্ষণ ঘটে। ধর্ষকের নাম ইব্রাহিম এলাহি। ধর্ষণের মামলায় ইব্রাহিম গ্রেফতার হয়, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও বিচার শেষে ইব্রাহিমের জেল হয়। আট মাস জেল খাটার পরে আদালতের কাছে আবেদন করায় ইব্রাহিম জামিনে মুক্তি পায় এই বছরের মে মাসের শুরুতে। জামিনপ্রাপ্তির পরপরই ইব্রাহিম লংগদুতে ফিরে যায়, সেখানে ধর্ষিতার ক্লাস ফোরে পড়ুয়া বোনকে (যে কিনা উক্ত মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী) পাহাড়ি ছড়ার কাছে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং কুপিয়ে হত্যা করে। মেয়েটির বয়স এগারো বছর। এই ঘটনাটি ৯ মে, ২০১২-এর। পরের দিনই ইব্রাহিম ধরা পড়েছে, তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তে ধর্ষণ ও খুনের আলামত পাওয়া গেছে।
খবর এইটুকুই। এবারে পাঠক, একটু ভাবুন তো, এই মামলার ফলাফল কী হতে পারে? আপনার কি মনে হয়, ইব্রাহিমের কেমন শাস্তি হতে পারে? একজন নাবালক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার শাস্তি কী? বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনি কি জানেন আইন কী বলে? এর পাশাপাশি এটাও ভাবুন, যে এই যে ক্রমাগত ধর্ষণ ও খুনের খবর আমরা পড়ি পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমতল জনপদে, অর্থাৎ এই পুরো বাংলাদেশে, সেই মামলাগুলোর শতকরা কতো ভাগ মীমাংসা হয় কিংবা অপরাধীর শাস্তি পায়। মনে মনে একটু হিসাব করুন। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমাদের আরামদায়ক স্বচ্ছন্দ জীবনের বুদবুদে এই শতকরা হিসাবটি বেশ হৃষ্টপুষ্ট দেখাবে। হয়তো আমরা ভাবছি, প্রায় ৫০ ভাগ মামলা নিষ্পত্তি পায়, হয়তো আমরা ভাবছি এদের মাঝে খুনী ধরা পড়ে প্রায় আশি ভাগ, হয়তো আমরা ভাবছি তারা শাস্তি পায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। অনেকে হয়তো ভাবছি তাদেরকে মৃত্যুদণ্ডই দেয়া হয়।
আচ্ছা, এই চিত্রটা ঢাকার বাইরে কি আরেকটু ভাল? নাকি বিস্তীর্ণ বাংলা একটি ধর্ষণপ্রবণ ও খুনপ্রবণ এলাকা? আপনি নিজের এলাকা সম্বন্ধে একটু ভেবে দেখুন। দেখতে পাবেন, অসংখ্য নারী ও শিশু ক্রমাগত ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। এই অপরাধ এতটাই অহরহ ঘটে চলেছে যে আমরা আর বিচলিত হই না। হয়তো আমাদের মত দেশে বেঁচে থাকাটাই সার্থকতা, তাই ধর্ষণকে গুরুত্ব দেই না (কথাটা অমানুষিক নির্দয় শোনালেও সত্যি)। অনেকের কাছে এই লেখাটি তাই অযথা মনে হতে পারে। মনে হতে পারে যে এতো এতো কঠিন সমস্যার মাঝে (যেমন ইলেকট্রিসিটি নাই, পানি নাই, বিদ্যুৎ নাই, দ্রব্যমূল্য চড়া ইত্যাদি) এসব পুরানো সমস্যার আলাপ কেন? অন্য সমস্যা এবং এই অনেকের মতামতকে বিন্দুমাত্র খাটো না করেও বলতে পারি, এই অপরাধগুলো অমোচনীয় হয়ে উঠেছে। এই অপরাধগুলো বাংলাদেশের একটি ইমেজ দাঁড় করাচ্ছে আমার মনে, তা হলো ধর্ষক ও খুনীর। আমার মনে হচ্ছে, চারপাশে পোটেনশিয়াল ধর্ষক ও খুনী ঘুরে বেড়াচ্ছে! কোনই নিশ্চয়তা নেই, যে এরা হঠাৎ কেউ ক্ষেপে উঠে ধর্ষণ করবে না।
এরকম অজস্র খবর আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, প্রতিটি থানা, প্রতিটি গ্রাম থেকে ধর্ষণ ও খুনের খবর আসছে। আপাতত, আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু পরিসংখ্যান এখানে তুলে দিচ্ছি-
• বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নারী ও শিশু ধর্ষণকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। (International CHT Commision Report: “Life Is Not Ours”, 1991)
• ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে ঘটিত ধর্ষণ অভিযোগের শতকরা ৯৪ ভাগ অপরাধী নিরাপত্তারক্ষা বাহিনীগুলোর সদস্য। ধর্ষণের অভিযোগগুলোর মাঝে শতকরা ৪০ ভাগ ধর্ষিতার বয়স ১৮ বছরের নিচে ছিল (জাতিসংঘের মতে, অনূর্ধ্ব ১৮ = শিশু) (‘Autonomy for Peace in the CHT’, Bangladesh, CHT Hill Women’s Federation, Bangladesh, 30 August – 10 September, 1995, UN World Conference on Women, NGO Forum on Women, Beijing.)
• ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের আগে, ’৯১-’৯৪ সময়কালে প্রায় ২৫০০ আদিবাসী নারী ও শিশু সামরিক বাহিনী ও বাঙালি সেটলারদের হাতে ধর্ষিত হয়েছে। [Ume Mong, “Bangladesher Adibasi narider nirapatta: Parbattya Chattagramer adibasi pahari nari (Security of Indigenous Women in Bangladesh: Hill Women of the Chittagong Hill Tracts)”, Bangladeshe adivasi narir nirapatta (Security of Indigenous Women in Bangladesh), (Dhaka: Forum on Women in Security and International Affairs, 2000)]
• শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পরেও এই চিত্র একেবারে দূর হয়ে যায় নি। ২০০৭ থেকে এই বছরের ফেব্রুয়ারির ভেতরে ৬৬ জন আদিবাসী নারী ও শিশু বাঙালি সেটলারদের হাতে ধর্ষিত হয়েছে, যাদের মাঝে একজনের বয়স ছিল সাড়ে তিন বছর। (http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=79164)
আপডেট: এই তথ্যগুলো যে লেখা থেকে সংগৃহীত সেটির লিংক এখানে।
এই অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে বাংলাদেশের আইন কী বলে – এবার একটু দেখি।
Punishment for rape
376. Whoever commits rape shall be punished with [imprisonment] for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine, unless the woman raped is his own wife and is not under twelve years of age, in which case he shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
সূত্র
বিস্তারিত
এই কঠোর শাস্তির নিয়ম আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। প্রয়োগ থাকলে ইব্রাহিমের মত নরকের কীট ছাড়া পেত না।
বদলের গানঃ
তাহলে এই সমস্যা দূর করার উপায় কী? আদৌ কোন উপায় কি আছে? নাহ। ভাল ভাল বুলি আউড়ে আসলে কোন লাভ হয় না। এই লেখাটি পড়ার পরপরই ওই ভাল ভাল কথা আপনি ভুলে যাবেন। আমিও ভুলে যাব। তারপর আবার দৈনন্দিন আলুপোড়াপুড়িতে ফেরত যাব। আর ভাল ভাল কথাও বোরিং জিনিস, তাই না? কাঁহাতক আর চেতনা, বিবেক, আদর্শের ‘প্যাঁচাল’ শুনতে ভাল লাগে!
আমি মনে করি, “অধিকার” ব্যাপারটি পুরোপুরি বুজরুকি। একজন মানুষের আপাতদৃষ্টে কোন অধিকার নেই। তার জীবন, জীবিকা, কর্ম, কীর্তি, বিত্ত ইত্যাদি তাকে জোগাড় করেই নিতে হয়। অধিকাংশ মানুষ মূলত এই বিষয়গুলো অর্জন করতে চেষ্টা করেন। কেউ তাকে যেচে পড়ে দেয় না। অধিকার মূলত ক্ষমতার সাথে জড়িত। যার ক্ষমতা বেশি, তার অধিকারও সবচেয়ে বেশি, অধিকার আদায় করার সুবিধাও সে বেশি পায়। তাই নারীর নিরাপত্তা এবং বেঁচে থাকার অধিকার তার নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে। এজন্য দরকার নারীর ক্ষমতায়ন। কিন্তু এই ক্ষমতায়ন ব্যাপারটি আমাদের সমাজে ভুলভাবে ইন্টারপ্রিটেড হয়। প্রথাগত ক্ষমতায়নে আমরা মনে করি, নারীকে চাকরি বাকরি করতে দেয়াটাই তার ক্ষমতায়নের মূল ফলাফল। নারীর লিঙ্গের প্রতি পুরুষতান্ত্রিক গোঁড়ামো এর জন্য দায়ী। নারীকে একটি যোনি দিয়ে বিচার করা হয়, যৌনতার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, এবং সন্তান-জন্মদানেই তার সর্বোচ্চ মহত্ত্ব – এমন একটি বানোয়াট ভূমিকা বানানো হয়। এর সবই প্রকাণ্ড পুরুষতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মনোভাব। এই মনোভাবের অংশ আমরা সবাই – নারী ও পুরুষ উভয়ই!
কিন্তু এই মনোভাব একদিনে বদলাবে না। আদৌ বদলাবে কি না, বদলের উপায় কি, সেটাও আমাদের পুরোপুরি জানা নেই। তবে আমি এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই বদলের জন্য সর্বপ্রথমে প্রয়োজন নারীদের মনোভাব বদলানো। এই যে ভ্রান্ত-দাসত্ব, পুরুষতান্ত্রিক চিন্তাগুলো তাদের চিন্তায়, মননে, কাজে, লক্ষ্যের ভেতর গেঁথে গেছে, সেটাকে একাগ্রতায় ভাঙতে হবে। এই ভাঙনের শুরু, আমাদের যৌথ বেদনা থেকে। নারী যেভাবে আক্রান্ত হয়, নিহত হয়, নির্যাতিত হয়, ধর্ষিত হয়... সেই প্রচণ্ড পরিস্থিতি থেকেই কেবল প্রেরণা আসতে পারে।
The Vagina Monologue (যোনি স্বগতোক্তি):
স্বনামধন্য লেখিকা ইভ এন্সলার রচিত দ্যা ভ্যাজাইনা মনোলগ (রচনাকাল ১৯৯৬) –এর ব্যাপারে আমি জেনেছি গত বছর। পুরো পাণ্ডুলিপিটি হাতে পাওয়ার পরে আমি রুদ্ধশ্বাসে পড়ে ফেলি। নারীর যৌনতা, তার আত্মবিশ্লেষণ এবং তার শারীরিক স্বকীয়তা নিয়ে স্বগত সংলাপ। এই সংলাপ আমার কাছে অনন্য মনে হয়েছে, অচেনা রাজ্য আবিষ্কারের মত – অকপট – স্বচ্ছ – নিবিড়। দ্যা ভ্যাজাইনা মনোলগের একটা বড় অংশ সামাজিক ট্যাবুকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ করে। যে রাখঢাক এবং লুকোচুরি দিয়ে একটি অপরিহার্য বিষয়কে সমাজ ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘নেতিবাচক’ বানিয়ে রেখেছে, সে বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ জরুরি। এই শতকে এসেও যে অন্ধকার আমাদের মনে জমে আছে, যে জড়তা আমাদের অথর্ব করে রেখেছে, সেই অন্ধকরের পেছনে মূল কারণ অজ্ঞতা। এই মনোলগটি যে কারণে অনন্য হয়ে ওঠে, সেটা হলো নারীর অভিজ্ঞতার সরাসরি বর্ণনা – কঙ্গো, বসনিয়া কিংবা নিউ ইয়র্কের একজন নারীর নিজস্ব কষ্ট, নিজস্ব নিপীড়ন যখন আমাদের সামনে অভিনীত হয়, তখন সেই অভিজ্ঞতা দর্শকের ব্যক্তিগত অনুভব হয়ে ওঠে। যেন তার ব্যক্তিগত ক্ষতের মুখ খুলে যায়। দর্শক ও অভিনেতা এই স্বগত সংলাপের ভেতর দিয়ে যুক্ত হয়ে পড়েন, তারা বুঝতে পারেন যে এই নিপীড়ন সার্বজনীন। এই যন্ত্রণার কোন দেশ – কাল – মানচিত্রের সীমানা নেই। বাংলাদেশের ধর্ষিত ও নির্যাতিত নারীর সাথে কঙ্গোর লিঙ্গকর্তনের শিকার নারীর কোন পার্থক্য নেই। দু’জনের অভিজ্ঞতা আরো অনেকের সচেতনতা ও রক্ষার মাধ্যম হয়ে ওঠে।
আশার কথা, এত নেতিবাচকতার মাঝেও ছোট ছোট আলোর রেখা দেখতে পাই। হঠাৎ এমন ঘটনাগুলো আশ্বাস দেয়, সাহস দেয়, পরিবর্তন একজন একজন করেই ঘটে। সম্প্রতি দ্যা ভ্যাজাইনা মনোলগের মঞ্চায়নের খবর পেলাম। নারীর জন্য প্রতিকূল জনপদে এমন মঞ্চায়ন হয়ত সেই পরিবর্তনের চিহ্ন। এই পরিবর্তন কিছু মানুষ আনয়নের চেষ্টা করছে। তাদের দেখাদেখি আরো আরো মানুষ জড়ো হবে। প্রতিটি পরিবর্তিত মানুষ আমাকে মানুষের শুভবোধের বিজয়ের চিহ্ন ধারণ করেন। অনুষ্ঠানে যারা অংশ নিতে চান, তাদের জন্য ইভেন্টের লিংক দিয়ে দিচ্ছি। বিস্তারিত সেখানে দেখে নিন।
ওয়ান-বিলিয়ন-রাইজিং:
সম্প্রতি একটি জরিপে জানা গেছে যে প্রতি তিন জনের একজন নারী জীবদ্দশার কোনো না কোনো সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পৃথিবীর জতnerনসংখ্সযা এখন সাতশ কোটি। অর্ধেক তার নারী, এবং তার এক তৃতীয়াংশ নির্যাতনের শিকার। অর্থাৎ প্রায় একশ কোটি নারী, নানাবয়েসী, নানাদেশী, নানাজাতির মানুষ নির্যাতিত হচ্ছেন। তাদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, যৌনাঙ্গ কেটে দেয়া হচ্ছে, অপহরণ করা হচ্ছে, নিপীড়ন করা হচ্ছে, খুন করা হচ্ছে। এই একশ কোটি মানুষ তো আমাদেরই কেউ না কেউ। হয়তো আমরা তাদের চিনি, যারা এই লেখা পড়ছেন, তাদের অনেকের পরিচিতের জীবনেই এমন ঘটনা আছে। এই অত্যাচারিতের শক্তি আমাদের যৌথ শক্তি হয়ে উঠুক। বিশ্বব্যাপী এক সার্বজনীন আর্তচিৎকার উঠুক আগামী বছর, ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ইভ এন্সলারের সাথে আমিও একাত্ম স্বরে বলতে চাই –
ONE IN THREE WOMEN ON THE PLANET WILL BE RAPED OR BEATEN IN HER LIFETIME.
ONE BILLION WOMEN VIOLATED IS AN ATROCITY
ONE BILLION WOMEN DANCING IS A REVOLUTION
*****
ONE IN THREE WOMEN ON THE PLANET WILL BE RAPED OR BEATEN IN HER LIFETIME.
ONE BILLION WOMEN VIOLATED IS AN ATROCITY
ONE BILLION WOMEN DANCING IS A REVOLUTION
অনেক দিন পর আরেকটি কঠিন সত্য নিয়ে হাজির হয়ে অনেক ভাবিয়ে গেলেন, অনীক!
শুভকামনা!
পোষ্টে সাত দিচ্ছি আর মডারেটরদের কাছে আবেদন করছি, পোষ্টটি স্টিকি করা হউক!
ONE BILLION WOMEN DANCING IS A REVOLUTION.
খুব স্পর্শকাতর একটা বিষয় নিয়ে আলোচনায় আসলেন অনীক'দা। এজন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
-------------------------------------------------
আমার মনে হয়, আমাদের এখন টনক নড়া দরকার- অথচ, আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে আমাদের টনক নড়ছে না! এইসব বিষয়কে প্রতিরোধ করার সবচে' বড় ব্যাপার হচ্ছে, সচেতনতা। এই যেমন আপনি লিখলেন,-এটাও সচেতনতার পর্যায়ে পড়ে। আরও অনেক কিছুই সমানে নিয়ে আসা দরকার। যেমন : অপরাধের পরিসংখ্যান (বিভিন্ন সোর্স থেকে সংগ্রহ করে) বড় বড় বিলবোর্ডে টাঙানো যায়, তাহলে কিছুটা হলেও টনক নড়বে বলে বিশ্বাস করি। এছাড়া আমার নিজেরও ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করবার আগ্রহ আছে- বিশেষ করে বাচ্চাদের যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা করবার জন্য একটা হেল্পলাইন যদি করা যেত তাহলে অন্তত কিছু ছেলে মেয়ে রক্ষা পেতে পারতো। এবং এরকম হচ্ছেও, যেমন ইণ্ডিয়ায় এরকম একটা সংস্থা কাজ করছে এবং সফলও হচ্ছে। এজন্য স্পন্সরশীপ দরকার (আমাদের দেশে অনেক টাকা পয়সা অযথা খরচ করবার লোক থাকলেও- প্রয়োজনমতো খরচ করবার লোক খুবই কম)।
-------------------------------------------
এই পোষ্ট স্টিকি হোক।
------------------------------
আলোচনা চলুক। সাথেই আছি।
-----------------------------------------------------
লেখকের মন্তব্য
বিষয়টা যথেষ্ট স্পর্শকাতর, কিন্তু মজা হচ্ছে, এটা নিয়ে পজেটিভ আলাপের জায়গা নেই। আশেপাশের অনেক দেশেই এই মঞ্চনাটক করতে দেয় নি। বাধা এসেছে নানামহল থেকে, শিক্ষিত, অশিক্ষিত। আমাদের দেশে করতে দিচ্ছে, তারপরেও সব জায়গায় আমরা পজেটিভ রেসপন্স পাই নি। শুনলে অবাক হবেন যে খুব উদারমনা বলে পরিচিত বিদেশি টাকায় চলা বিভিন্ন জায়গাতেও টালবাহানা করেছে।
এজন্য আমি মনে করি ঢাকঢোল বাজিয়ে আসলে পরিবর্তন আসে না। হয়তো একজন একজন করে বদলায়।
অনিক দা, পড়লাম। এখনি কোন মন্তব্য করবনা। একটু সময় নিয়ে ভেবে চিন্তে বলতে হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর কথা বলতে চেয়েছিলাম, যেটা বন্ধু নুশেরা বলেছে নিচে।
তবে কোন ভিক্টিম এর পক্ষে বিচার পাওয়া খুবই দুরূহ ব্যাপার। যেহেতু আমাদের দেশে বেশীর ভাগ ভিক্টিমই হত দরিদ্র অথবা দুর্বল। প্রথম বাঁধা পার হতে হয় থানায়। এফআইআর লেখানোই একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। তারপর ডাক্তার-এর রিপোর্ট। সেখানে ডাক্তার সাহেব কতটুকু কি লিখবেন বা লিখবেন না সেই দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় ভিকটিম আর তার পরিবারকে। এই রিপোর্ট এর উপর পুরোপুরি নির্ভর করে চার্জশিট হবে কি হবে না অথবা হলেও তা কতটা কার্যকর হবে বা হবে না। তার পর আইও কে ম্যানেজ করার ব্যাপার তো আছেই। এই পুরো প্রক্রিয়াতেই আসামি পক্ষের ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থাকে। তবে কিছু কিছু নারী সংগঠন আর মানবাধিকার সংগঠন ভিক্টিমকে সাহায্য করে এই প্রক্রিয়ায়। মামলা আদালত পর্যন্তও যাওয়ার পর শুরু হয় উকিলের কেরামতি। মামালা চালিয়ে নেবার সঙ্গতি এই সব ভিক্টিম পরিবারের থাকেনা। এই মামলা গুলো আপোষযোগ্য হওায় বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ভিক্টিম মামলা তুলে নেয় অল্প কিছু টাকা পয়সার বিনিময়ে। আমাদের দেশে নারীদের ওপর যেসবনির্যাতন বা অপরাধ হয় বিচার হবার নজির খুব কম।
কিছু সময় স্তব্ধ সময়...
'আবার তোরা মানুষ হ' কথাটাকে ঘুরিয়ে বলা যায়, মানুষ তোরা মানুষ হ!
লেখাটা পুরো পড়িনি, তাও কটা কথা বলি।
১। শুধু রেইপ কেনো, বাংলাদেশে কটা অপরাধের বিচার হয়? এটা খুব অস্বস্তিকর ব্যাপার। লজ্জাজনকও।
২। রেইপ ভিকটিম বিচার চলাকালেও আরেকদফা নির্যাতিত হয়।
৩। প্রতি ৩ জনে ১ জন নারীর ধর্ষিত/প্রহৃত হওয়াটা একটু বেশীই মনে হয়।
৪। বাংলাদেশে জামিনে আরেকটু কড়াকড়ি করা দরকার। জামিনে বের হয়ে যে কত অপরাধ করে মানুষ। উইটনেস/ভিকটিম প্রটেকশনও খুব দরকার।
আরেকটা বিষয় দেখা যায়, ধর্ষণজনিত অপরাধ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইনী প্রতিকারের দিকে গড়ায় না আমাদের এখানে। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে। প্রভাবশালীদের প্রতাপে ধামাচাপা পড়ে যায় অনেক সময় এবং গ্রাম্য শালিসে নিষ্পত্তি করা হয় বিষয়টা।
সামাজিকভাবে হেয় হবার ভয়েও চুপচাপ থাকে অনেকে।
বিষয়টা মহামারি আকার ধারণ মনে হয় সেটাও একটা কারণ; যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত না করায়।
লেখকের মন্তব্য
১। অন্য সব অপরাধেও বিচার হয় না। আইন আর বিচারব্যবস্থা দুর্বৃত্তের ও ক্ষমতাশীলের অধিকারে। এজন্যই তো পোস্টের ভূমিকাটা লিখেছি। আমরা কেউই নিরাপদ না!
২। এই পোস্ট লেখার আগে, আমিও ভেবেছি যে এই পরবর্তী ধর্ষণগুলো কতো বেদনাদায়ক। ইভ এন্সলারের একটি কবিতা আছে, "Over It" শিরোনামের। কয়েকটি লাইন তুলে দেই, পড়ে আমার প্রচণ্ড মন খারাপ হয়েছিল। বিষময় অবস্থা!
৩। প্রতি তিনজনে একজন বেশি না। জীবনের কোনো না কোনো সময় সেক্সুয়ালি বা ফিজিক্যালি অ্যাবিউজড হয়েছেন, এমন নারী তিনজনে একজন হতেই পারে। উন্নত বলেন আর তৃতীয় বিশ্ব বলেন, সবখানেই নানাবয়েসী নারীরা নানাভাবেই অ্যাবিউজ হয়। এর মাত্রা বা ধরণ আলাদা (বেশিরভাগ হয়ত আমাদের ওয়াইল্ডেস্ট ইমাজিনেশনেও আসে না!)
৪। পুরা সহমত।
আইনে এই অপরাধটা সম্ভবত জামিন যোগ্য। আমার ঠিক মনে পড়ছে না। নুশেরা ভাল বলতে পারবে।
তবে ভিক্টিমের উকিল যদি ভাল ভাবে জামিনের বিরোধিতা করে তবে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করবেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় এই উকিলেরা আসামির পক্ষ থেকে টাকা খেয়ে জামিন আবেদনে অনাপত্তি দেয়। বিচারক নিজে থেকে কারো পক্ষ নিতে পারেন না। এমনকি তিনি কোন পক্ষকে কোন ধরণের পরামর্শও দিতে পারেন না। জামিনের ক্ষেত্রে এজহার এবং চার্জশিট-ও ইম্পরটেন্ট ব্যাপার।
আমার একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি- একবার কোন এক মামলার আসামী যেন জামিন না পায় রাষ্ট্রপক্ষের উকিলের সাথে তা নিয়ে সব কথাবার্তা হল। তিনি বললেন- ছয় মাসেও জামিন হবে না, আপনি শিওর থাকেন। জামিনের শুনানি হবার পর জানতে পারলাম আসামী দাঁত কেলিয়ে হাসতে হাসতে জামিন নিয়ে বেরিয়ে গেছে। আমাকে উকিল বলল- ওরা জজ সাহেব কে হাত করেছে নিশ্চয়!পরে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম, আসামীর জামিন আবেদনে আমাদের উকিল লিখেছেন "দেখিলাম"। আদালতের প্র্যাকটিস অনুযায়ী এর মানে হল- আপত্তি নাই! অথচ তার লেখা উচিৎ ছিল-"গুরুতর আপত্তি সহকারে দেখিলাম"।
এ সমস্যার সমাধানে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানষিকতাকে বদলাতে হবে।
পোষ্টটি স্টিকি করা হউক!
পোষ্টে ৭তারা।
আমার ভুল নাহলে এ পোষ্টে এখনো কোন 'নারী' মন্তব্য করেনি।
প্রেম এবং দ্রোহ কোন ক্ষেত্রেই তাদের এখনো ঠিক করে বুঝিনি।
হুমায়ুন আজাদের 'নারী'
যদিও বিতর্কিত আমার কাছে দরকারী।
লেখকের মন্তব্য
হুমম। এইটা ভাবছিলাম, আপনি বলে দিলেন।
পোস্ট টি স্টিকি করা হোক!
পোস্টে ধর্ষণের শাস্তির প্রসঙ্গে পেনাল কোড বা দণ্ডবিধির উল্লেখ আছে। এটা আসলে এখন অকার্যকর; প্রতিস্থাপিত হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ দিয়ে। তাতে ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, পুলিশি হেফাজতে ধর্ষণ এসবের শাস্তির উল্লেখ আছে ৯ ধারায়।
নির্যাতন প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিকল্প নেই, অন্তত আমাদের মতো দেশে।
নারী নির্যাতনের ঘটনা রেকর্ড করার শুরু থেকে তদন্ত, ডাক্তারি পরীক্ষা, বিচার প্রক্রিয়া ইত্যাদির বিভিন্ন পর্যায়ে নারী কর্মচারী/কর্মকর্তা থাকা উচিত।
পোস্টের সঙ্গে একমত।
পাহাড়ে ধর্ষণের পরিসংখ্যান আতঙ্কিত হবার জন্য যথেষ্ট ।
পাকীস্তানী শূকরেরা আমাদের নারীদের ধর্ষণ করেছিল,বাঙালি আর্মিরা পাহাড়িদের ধর্ষণ করে !
তপাৎটা কী ? পাহাড়িরা কী ভিন গ্রহের প্রাণী ! তারা কী বাংলাদেশের নাগরিক না ?
পোস্ট স্টিকি করবার আবেদন রইলো
লেখার কিছু তথ্য আঁতকে তুলেছে, অনেক ভাবিয়ে তুলেছে, অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ইভেন্টের সফলতা কামনা করছি !
পোস্টটি স্টিকি হোক
পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
স্পর্শকাতর একটি বিষয় নিয়ে তথ্যবহুল আলোচনা করেছেন।
মানুষের মানবিকতা বোধ জাগ্রত হলে অবশ্যই এই অবস্থার পরিবর্তন হবে।
পোস্ট স্টিকি করা হোক।
রেপ ভিকটিমদের কথা বিশেষ করে পাহাড়ী নারী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার (পুলিশ,বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী) হাতে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলি কখনোই আই রিপিট কখনোই দৈনিক পত্রিকা গুলোতে আসেনা। কেন আসে না? উত্তরটা সহজ পত্রিকা অলাদের হেডু সরকার বিরোধী দল আর আর্মীর বড়কর্তারা। কমলাপুর রেল স্টেশনে আসা প্রতিটি ভাসমান শিশু সপ্তাহ খানেকের ভেতর রেপড হয়। আইন প্রয়োগকারি উর্দি ধারীরা বেছে নেয় শিশুদের মধ্য থেকে কাদের সাথে শোবে। এবং এরাই সবচেয়ে কুতসিততম ক্রিমিনাল। পুলিশ ইচ্ছা করলে অনেক কিছুই পারে। কিন্তু কখনোই করে না। কিন্তু আমি এখনো স্বপ্ন দেখি - আমরা বদলালেই পৃথিবী বদলাবে।
বহুব্রীহি ভাই,
পুলিশ,বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ঘটা এই অপরাধগুলো আলাদা ভাবে না দেখলেই খুশী হব। এটা যে কোন অবস্থায়, যে কোন পোষাকে মানুষের জৈবিক লিপ্সা চরিতার্থ করার প্রয়াস। গৃহ কর্তা যেমন তার গৃহে দু'মুঠো খাবারের জন্য এসে ঠাই নেয়া শিশু কিম্বা কিশোরীর উপর ঝাপিয়ে পড়েন, কোন অফিসের কর্তাবাবু যেভাবে কোন মহিলা কর্মচারীর দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগান ঠিক সেভাবেই বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরাও তাঁদের লিপ্সা চরিতার্থ করতে দুর্বলের ওপর ঝাপিয়ে পড়েন। আমি বিভিন্ন শ্রেণীর বা পোষাকের এই জানোয়ারদের মাঝে কোন মৌলিক পার্থক্য দেখিনা। তবে এসব ঘটনা বেশী ঘটছে সব বাহিনীর নিন্মপদস্ত সদস্যের দ্বারা। যাদের শিক্ষা বা মূল্যবোধ খুব উন্নত নয়। সংবাদ মাধ্যমে না আসার মানে এই না যে এই অপরাধ গুলো আমলের বাইরে রয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক বাহিনীতে এসব অপরাধ খুব কঠিন ভাবে ডিল করা হয় বলে আমার ধারনা। তবে শাস্তি না হওয়াটা অবশ্যই অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। সব ক্ষেত্রেই যে বিচার হচ্ছে তা জোর দিয়ে বলা যাবে না।
আমার জানামতে UN অর্থায়নে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য এরকম একটা সচেতনতা মূলক প্রোগ্রাম ছিল। বাজেট স্বল্পতার কারণে এটি দীর্ঘায়িত হয় নাই। আমার উদ্দেশ্য বিজিবি বা আর্মড ফোর্সের কাউকে হেয় করা নয়। কিন্তু বাহিনীর কেউ যখন অপরাধ করেন সেটি পুরো ফোর্সের উপরি বর্তায় বৈকি। খুব সম্ভবত '৯৫ তে ইয়াসমিন নামের ১৪ বছরের এক বস্ত্র বালিকা পুলিশ কাস্টডিতে রেপড ও মার্ডাড হয়। মেয়েটি বাড়িতে ফিরছিল মায়ের কাছে। পথে ভুল স্টেশনে নামার পর পুলিশ ওকে ভ্যানে উঠিয়ে নেয়। ঐ সময়টায় মিডিয়তে এই ঘটনাটি অত্যন্ত আলোড়ন সৃষ্টি করে। যে পুলিশ সদস্যরা এই ঘটনা ঘটায় ওদের ফাসি হয়।
এই ঘটনা টেনে আনার কারন হল পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ইচ্ছা করলে অনেক কিছুই পারেন। আমি এর আগেও এর প্রমান পেয়েছি। বাংলাদেশের পুলিশ করিতকর্মা নয় বলে জনমনে যে ধারণা আছে তা সঠিক নয়। কিন্তু কারা বা কাদের পুলিশ সাহায্য করে -- যাদের হাতে ক্ষমতা ও টাকা আছে আঈন তাদের। ইয়াসমিনের ক্ষেত্রে মিডিয়ার প্রবল প্রভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত অপরাধীদের শাস্তি হল। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দেখেও অনেক কিছু না দেখার ভান করেন। আমি জানি না এটা কেন ঘটে? কেন ঘটে এমনটা?
আমি জানিনা আপনি পেশগত বা অন্য কারণে পুলিশ বাহিনী বা অন্য কোন বাহিনীর সাথে জড়িত কিনা। কিন্তু রুট লেভেলে অবস্থা অত্যন্ত শংকা জনক। আমি আপনার সাথে একমত যে বাহিনীর স্বল্প শিক্ষিত সদস্যরাই এটা ঘটায়। কিন্তু এর প্রতিকার করা প্রয়োজন যেটা প্রায় কোন ক্ষেত্রেই হয় না।
বহুব্রীহির মন্তব্যে ভোট আপ !
পোষ্টটি পড়ে ভাল লাগলো।
কিছু কিছু ব্যাপারতো পিলে চমকে উঠার মতো!!
এই অবস্হা!!
---
পোস্ট সংকলিত পাতায় যাক।
ভালো বিষয় নিয়ে লিখেছেন।
পোষ্ট স্টিকি হোক।
প্লে কি বাংলায় হইছে নাকি ইংলিসে? কিছু ছবি দেখলাম। কসচিউম ডিজাইন সুন্দর। সমস্যা হচ্ছে এই কসচিউম ডিজাইনের ইংলিস কোন প্লে বাংলাদেশের মত জায়গায় বিশেষ কোন প্রয়োজন নাই। দেখে মনে হয়েছে, এটা এমন একটা স্পেসিফিক ক্লাসের অডিয়ান্সের জন্য বানানো হয়েছে যারা দেখবে, হা হুতাস করবে, ইয়েস উই ক্যান, ইয়েস উই উইল বলতে বলতে বাসায় যাবে। গেইম ওভার।
লেখকের মন্তব্য
কস্টিউম দেখে শো-এর হালহকিকত কেমন দৈবশক্তিতে বুঝলেন?
এই নাটকটার অডিয়েন্স সবাই হতে পারে, এমনভাবেই লেখা হয়েছে। হাসিঠাট্টায় যেমন সবাই হেসেছে, তেমনি রেইপ ভিক্টিম বা মলেস্টেশনের স্বগতোক্তিতে সবাই শিউরে উঠেছে। এটা তো সার্বজনীন নির্যাতন, ভাষা সেখানে গৌণ। গত দুই বছর এটা খুব ছোট অডিয়েন্সে করা হয়েছে, কারণ বেশ কিছু এলিমেন্ট দর্শকের গালে ঠাশ করে চড় মেরে দেয়ার মত। তাই ছোট, পরিচিত অডিয়েন্সের মাঝে দেখিয়ে একটা আইডিয়া নেয়া হয়েছে যে আদৌ বাংলাদেশে এই নাটক মঞ্চস্থ করা যায় কি না। গত দুই বছরের রেসপন্স দেখেই এই বছর বড়ো আকারে করা হয়েছে। একটা শো হয়েছে জার্মান কালচারাল সেন্টার গ্যেটে-তে। ধানমন্ডির মানুষজন অনেককেই দেখলাম আসছে ঐ শো-তে।
আমি নিজে মনে করি এমন শো বাংলায় করা উচিত। অনেকেই এমন ভাবছে। তাহলে আরো বড়ো অডিয়েন্সের কাছে মেসেজটা পৌঁছানো যাবে। তবে দুটা সমস্যা আছে। এক- শো-এর কপিরাইট ইভ এন্সলার এবং V-Day Organisation-এর। বাংলা করা হলে সেটা সরাসরি তাদের সাথে আর যুক্ত থাকবে না। শো-এর জন্য যে ফান্ড সেটা V-Day Org-এর মাধ্যমে যত সহজে পাওয়া যায়, সেটা বন্ধ হয়ে যাবে। দেশে এ'ধরণের মঞ্চনাটকের পেছনে বছর বছর টাকা ঢালার মত প্রতিষ্ঠান খুব একটা নেই। মানুষের টাকা আছে, কিন্তু সেটা দিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসা বানায়, নাটক করে না।
দ্বিতীয় সমস্যাটা হলো অনুবাদকের। এই নাটকের অনুবাদ এতই সংবেদনশীল যে একটু এদিক ওদিক হলে মূল মেসেজটা হারিয়ে যাবে। তবে আশার কথা হলো এক সাথে অনেক অনুবাদক এগিয়ে আসছেন, সুতরাং হয়ত আগামী বছর বাংলাতেই মঞ্চস্থ করা যাবে।
বাংলা করার আরেকটা শঙ্কা কাজ করছে আমার মনে। সেটা হলো ইংরেজিতে অনেক কথাই শুনতে মোটামুটি গা-সওয়া লাগে। বাংলায় বললে ভয়ানক প্রতিক্রিয়া হয়! এই শো-এর ভেতর কিছু কিছু শব্দ, বাক্য বাংলা করা হয়েছিল। তাতেই বুঝতে পেরেছি যে এটা একটা এটম বোম্ব হতে পারে। যেমন, ইংরেজিতে Vagina বা pussy শুনলে বাঙালি মনে খুব একটা রিয়্যাকশন হয় না। কিন্তু ভোদা আর চুত শুনলে অনেকেই তেড়ে আসতে পারেন (এসেছেনও ফেসবুকে!)।
তাই সতর্কতার সাথেই বিষয়টা দেখতে হবে।
খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। সবার পড়া উচিৎ।
লেখকের মন্তব্য
এরকম লেখায় ফালতু একটা কমেন্ট করলেন। জায়গা নষ্ট এবং মেজাজটাও খারাপ হলো আপনার এই কমেন্ট দেখে।
লেখার কিছু তথ্য আঁতকে তুলেছে, অনেক
ভাবিয়ে তুলেছে, অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ইভেন্টের সফলতা কামনা করছি !
মন্তব্য করুন